নীরব দেয়াল( প্রথম খণ্ড)
Google Play থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
লেখক পরিচিতি
মোঃ জাহিদুল ইসলাম জীবন (বিষাদ কারিগর)জন্ম ও শিকড়ের আখ্যান:বাংলা কথাসাহিত্যের এক অমিত সম্ভাবনাময় রূপকার ও পাঠকপ্রিয় শব্দকারিগর মোঃ জাহিদুল ইসলাম জীবন। ২০০৪ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি, ক্যালেন্ডারের পাতায় লিপইয়ারের এক অনন্য ও স্মরণীয় তিথিতে জামালপুর সদরের তেতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম (যদিও দাপ্তরিক ও আইনি নথিতে তাঁর জন্মতারিখ ২৭শে অক্টোবর, ২০০৫)। পিতা হারুন অর রশিদ এবং মাতা জাহানারা বেগমের সুযোগ্য সন্তান জাহিদুলের আনন্দমুখর শৈশব কেটেছে জামালপুরের মায়াময় ও নিভৃত প্রান্তরে। প্রকৃতির সেই শান্ত-স্নিগ্ধতা তাঁর ভাবনার জগতে আজীবন এক গভীর সৃষ্টির ছাপ রেখে গেছে।শিক্ষা ও মননের যুগলবন্দি:তেতুলিয়া প্রাইমারি স্কুল এবং তিরুথা সত্যপীর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে তিনি জীবনবোধের টানে পাড়ি জমান চায়ের দেশ মৌলভীবাজারে। মৌলভীবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ২০২৫ সালে কম্পিউটার টেকনোলজিতে সফলভাবে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। বিজ্ঞানের জটিল সমীকরণ আর প্রযুক্তির বাইনারি কোডকে সঙ্গী করে বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) বিভাগে উচ্চতর শিক্ষায় নিয়োজিত। প্রযুক্তির ছাত্র হয়েও সাহিত্যের আঙিনায় তাঁর এই সাবলীল ও নান্দনিক বিচরণ এক আশ্চর্য সুন্দর বিস্ময়।লেখক সত্তার উন্মেষ ও সৃষ্টির ক্যানভাস:ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই শব্দের সাথে তাঁর মিতালি। তবে জামালপুরের চেনা কোলাহল ছেড়ে দূর প্রবাসে পরিবারহীন, একাকী জীবনই তাঁর ভেতরের ঘুমন্ত লেখক সত্তাকে জাগ্রত ও পূর্ণতা দেয়। একাকীত্বের সেই দহন, নৈশব্দ আর যাপিত জীবনের নিগূঢ় অনুভূতিগুলোকে তিনি রূপ দিয়েছেন শব্দের জাদুকরী বুননে। কথাসাহিত্যের ক্যানভাসেই তাঁর তুলির আঁচড় সবচেয়ে জোরালো। মানুষের মনের না-বলা কথা, লুকিয়ে থাকা দীর্ঘশ্বাস, বিষাদ আর অবিনশ্বর ভালোবাসার গল্পগুলোকে তিনি জীবন্ত করে তোলেন তাঁর উপন্যাসে। অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী লেখনীর কারণে পাঠকমহলে তিনি "বিষাদ কারিগর" হিসেবেও সমাদৃত।সাহিত্যকর্ম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতি:স্বল্প সময়ের সাহিত্যযাত্রায় একক উপন্যাসের পাশাপাশি যৌথ লেখনী এবং ডিজিটাল মাধ্যমেও তিনি তাঁর প্রতিভার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় বুক প্ল্যাটফর্ম রকমারি ডট কম (Rokomari), পোকোমিক্স(Pokominx), প্রতিলিপি (Pratilipi), বইপোকা (Boipoka) এবং কাঠগোলাপ (Kathgolap)-এর মতো নামী ডিজিটাল মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টিশীল কাজগুলো পাঠকদের মন জয় করেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মসমূহের মধ্যে রয়েছে:রকমারি ও প্রিন্ট মাধ্যমে প্রকাশিত জনপ্রিয় উপন্যাস: রক্তজবার দীর্ঘশ্বাস, অনিশ্চিত ভালোবাসার চার বছর, অক্ষরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, অশ্রুভেজা আঁচলের ছায়া, রিক্ত আকাশের তারা, হৃদয়জুড়ে একদল বন্ধু, অপ্রাপ্তির নীল দহন, সুখের অপমৃত্যু, অন্ধকারের ওপারে, নিষিদ্ধ নগরীর নীলকণ্ঠী এবং অস্তিত্বের ব্যবচ্ছেদ। পোকোমিক্সও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে সাড়া জাগানো সৃষ্টিসমূহ: মৃত্যু ফুলের সুবাস, দর্পণ বিভ্রম, নিখোঁজ অন্ধকার, কফিনের ক্যানভাসে জলছবি, নীল নক্ষত্রের ক্ষত, অর্ধেক পূর্ণিমা (একটি মনস্তাত্ত্বিক আখ্যান), অদৃশ্য ত্রিকোণ, নীরব দেয়াল (প্রথম খণ্ড), কণ্ঠহীন চিৎকার, কাঁচের ওপাশে তুমি, নীল পদ্মের বিষাদ, অচেনা ঠিকানায় তুমি, বিভ্রমের উপাসক, চিঠির বাক্সে শেষ বসন্ত এবং আয়নার ওপিঠে জল্লাদঘর।একক বইয়ের সমান্তরালে বিভিন্ন যৌথ গ্রন্থ ও সংকলনে তাঁর অংশগ্রহণ সাহিত্যিক গ্রহণযোগ্যতাকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। উপন্যাসের পাশাপাশি জীবনমুখী ছোটগল্প, মননশীল কবিতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমসাময়িক উক্তি ও মনস্তাত্ত্বিক প্রবন্ধ লিখে তরুণ পাঠকহৃদয়ে এক স্থায়ী ও অনন্য আসন তৈরি করে নিয়েছেন। জাহিদুল ইসলাম জীবন বিশ্বাস করেন—প্রতিটি শব্দই এক একটি জীবনের না-বলা আখ্যান, যা কালের খেয়ায় বেঁচে থাকে কাগজের বুকে ও ডিজিটাল স্ক্রিনে।
গল্পের সারাংশ
আঠারো বছরের বর্ষা বাইরে চঞ্চল ও অবাধ্য, কিন্তু ঘরের চার দেয়ালে সে মানসিক নির্যাতনের শিকার। তেরো বছর আগে তার মা রিটা খাতুন তাকে ফেলে চলে গেছেন—এই অজুহাতে বাবা রহমান সাহেব, সৎ মা রিনা বেগম ও দাদী তাকে প্রতিদিন ‘মায়ের পাপের বোঝা’ বলে খোঁটা দেয়। কিন্তু রক্তপাত বা শারীরিক আঘাত না করে, বর্ষার ভেতরে জন্ম নেয় এক ভয়ংকর ডার্ক সাইকোপ্যাথিক কল্পনা (সাইকোসিস)—যেখানে সে নিজের মাথায় চলা তীব্র শব্দ (টিক... টিক...) এবং নখ দিয়ে আঙুল চিরে রক্ত বের করার মাধ্যমে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখে।