লেখক পরিচিতি
আমি বিষণ্ন সুমন। স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। শুরুটা সেই সাত বছর বয়েসে শরৎচন্দ্রের বিন্দুর ছেলে দিয়ে। তারপর একে একে রোমেনা আফাজের দস্যু বনহুর, কাজীদা’র কুয়াশার সাথে পরিচয়। তারও অনেক বছর পর ১৯৮৩ সালে কাজী মাহবুব হোসেনের প্রথম ওয়েস্টার্ণ আলেয়ার পিছে দিয়ে ওয়েস্টার্ণ পাঠক হিসেবে আমার আবির্ভাব। সেই ধারাবহিকতায় মাসুদ রানা, সেবা ক্ল্যাসিক, অনুবাদ, তিন গোয়েন্দা এবং সর্বশেষ সেবা রোমান্টিক এর সাথেওপথচলা শুরু। পাশাপাশি রহস্য পত্রিকা ছাড়াও অন্য প্রকাশনী যেমন অবসর, অনুপম, লীনা এবং সেবার অঙ্গ প্রতিষ্ঠান প্রজাপতি থেকে বের হওয়া কোন ওয়েস্টার্ণই বাদ দেইনি। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। অনলাইন সাহিত্য পোর্টাল গল্প—কবিতা ডট কম এবং বাংলানিউজটুয়েন্টিফোর ডট কমে নিয়োমিত লিখেছি। ইদানীং সেবার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও ধারাবাহিক ওয়েস্টার্ণ এবং একশন থ্রিলার লিখছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধ্যাত্ব এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা তখন। সেসময় আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। গুগুলে আমার নাম বিষণ্ন সুমন লিখে সার্চ দিলে হয়তো আমার পুরনো কিছু লিখার লিংক পেতে পারেন।
গল্পের সারাংশ
রিটায়ার্ড কর্ণেল রেজোয়ান। চাকুরীতে থাকাকালীন খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় একটা জায়গা কিনেছিলেন। ইচ্ছে ছিল অবসরে যাবার পর ওখানে একটা রেস্টহাউজ বানাবেন। পরিবার পরিজন নিয়ে এসে মাঝে মাঝে থাকবেন। কিন্তু, যখন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে জায়গায় যান, দেখেন ওখানে এক রিসোর্ট কোম্পানীর সাইনবোর্ড ঝুলছে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, পাহাড়ের এক পরাক্রমশালী নেতার সহায়তায় ওই কোম্পানী জায়গায়টা অনেকটা জোর যার মুল্লুক তার পদ্ধতিতে দখল করে নিয়েছে। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের কয়েক জায়গায় নক করে ব্যর্থ হলেন। রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার বলে কেউ তার ব্যপারটায় গুরুত্ব দিল না। কেউ কেউ এমন গহীন পার্বত্য এলাকায় জায়গা কেনবার জন্য উপহাস করলো। বুঝে গেলেন যা করবার নিজেকেই করতে হবে। যোগাযোগ করলেন ওই কোম্পানীর মালিকের সাথে। তাদেরকে বুঝিয়ে বললেন, জায়গাটা ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেবার জন্য। তার কথা তো তারা শুনলই না, উল্টো বিষয়টা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকী দিল। কিন্তু, তারা জানতো না আর্মিতে রেজোয়ানের আরেক নাম ছিল, নাইট ওলফ। তিনি একজন আনআর্মড কমব্যাট পারদর্শী দুর্ধর্ষ কমান্ডো। যুদ্ধের ময়দানে যে ছিলেন একাই একশো। এবার সময় এসেছে নিজের ব্যাক্তিগত যুদ্ধে সেই শক্তি দেখাবার। সে কি পারবে তার বেদখল জায়গাটা উদ্ধার করতে?