লেখক পরিচিতি
বাংলা সাহিত্য নিয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আরাফাত ইসলাম লেখালেখির ভুবনে এক উদীয়মান তরুণ প্রতিভাধর। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে তিনি গল্প লেখার সাথে যুক্ত আছেন। মূলত ভৌতিক এবং হালকা থ্রিলারধর্মী ঘরানার গল্প লিখতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর লেখা গল্পগুলোতে রোমাঞ্চ, রহস্য আর শিহরণ জাগানিয়া পরিবেশের এক অপূর্ব মিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায়, যা থ্রিলারপ্রিয় পাঠকদের সহজেই মন্ত্রমুগ্ধ করে।
গল্পের সারাংশ
দিদার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পুরনো রায়বাড়িতে ফিরে আসে অনিন্দিতা। বাড়ির চিলেকোঠায় খুঁজে পাওয়া এক প্রাচীন আয়না তার জীবনে নিয়ে আসে অভাবনীয় এক আতঙ্ক—এই আয়না বর্তমান নয়, দেখায় আগামী তিন ঘণ্টার ভবিষ্যৎ, আর প্রথম দৃশ্যেই ফুটে ওঠে বাড়ির এক কর্মীর ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণের ছবি, যদিও সে তখনও নিরাপদে বেঁচে আছে। সেই দৃশ্য সত্যি হওয়া ঠেকাতে গিয়ে অনিন্দিতা জড়িয়ে পড়ে এক গভীর, বহু বছরের পুরনো রহস্যে—যার শিকড় ছড়িয়ে আছে তার নিজের পরিবারের অতীতে। ছোটবেলার বন্ধু রোহনের আকস্মিক আগমন, বাড়ির বিশ্বস্ত কর্মচারীর অস্বস্তিকর নীরবতা, আর দিদার ফেলে যাওয়া একটি ডায়েরির পাতা—প্রতিটি সূত্র একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে তৈরি করে এমন এক জাল, যেখানে বিশ্বাস আর সন্দেহের সীমারেখা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে ওঠে। আয়নাটা কি সত্যিই ভবিষ্যৎ দেখায়, নাকি নিজেই ঘটনার নিয়ন্তা? আর কেনই বা প্রতিটি প্রজন্মকে এই বাড়ি বারবার টেনে আনছে একই অন্ধকার অতীতের কাছে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনিন্দিতাকে মুখোমুখি হতে হয় এমন এক সত্যের, যা শুধু তার পরিবারকেই নয়, নিজের নিরাপত্তাকেও ফেলে দেয় গভীর ঝুঁকিতে।