লেখক পরিচিতি
বাংলা সাহিত্য নিয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আরাফাত ইসলাম লেখালেখির ভুবনে এক উদীয়মান তরুণ প্রতিভাধর। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে তিনি গল্প লেখার সাথে যুক্ত আছেন। মূলত ভৌতিক এবং হালকা থ্রিলারধর্মী ঘরানার গল্প লিখতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর লেখা গল্পগুলোতে রোমাঞ্চ, রহস্য আর শিহরণ জাগানিয়া পরিবেশের এক অপূর্ব মিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায়, যা থ্রিলারপ্রিয় পাঠকদের সহজেই মন্ত্রমুগ্ধ করে।
গল্পের সারাংশ
বারো বছর ধরে গ্রামের প্রান্তের পুরোনো শ্মশানটি বন্ধ। সেখানে আর কোনো চিতা জ্বলে না, তবু জায়গাটিকে ঘিরে ছড়িয়ে আছে এক অস্বস্তিকর ইতিহাস—একই চিতা নাকি দুবার জ্বলে উঠেছিল, কয়েকজন মানুষ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছিল, আর তারপর থেকেই শ্মশানটি যেন গ্রামের স্মৃতি থেকে মুছে রাখা হয়েছে। বাবার মৃত্যুর বহু বছর পর রায়হান গ্রামে ফিরে এসে এক অস্বাভাবিক কালো বিড়ালের অনুসরণে সেই নিষিদ্ধ জায়গাটিতে ঢুকে পড়ে। সেখান থেকেই শুরু হয় এমন এক রহস্যের, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার বাবার অতীত এবং বারো বছর আগের সেই রাত। শ্মশানের ভেতরে রায়হান খুঁজে পায় পুরোনো পায়ের ছাপ, নিখোঁজ মানুষের রেখে যাওয়া সূত্র, একটি লাল কাপড়ের ব্যাগ এবং এমন কিছু লেখা, যা তার নিজের অতীত সম্পর্কে তার জানা ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। নদী, কুয়াশা, পরিত্যক্ত চিতাস্থান এবং অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা অচেনা উপস্থিতির মধ্যে ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে—সেদিনের ঘটনাকে গ্রামের মানুষ যতটা জানে, সত্যি তার চেয়ে অনেক গভীরে। রায়হানের সামনে তখন একের পর এক প্রশ্ন: তার বাবা আসলে কী জানতেন? বারো বছর আগে শ্মশানে কী ঘটেছিল? কেন সেই রাতের স্মৃতি তার মনে নেই? আর কালো বিড়ালটি কেন বারবার তাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে অতীত যেন এখনও শেষ হয়ে যায়নি? নিজের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির মুখোমুখি হতে হতে রায়হানকে বুঝতে হয়, কিছু রহস্য কেবল অতীতকে জানতে নয়—নিজের পরিচয় এবং বাস্তবতাকেও নতুন করে প্রশ্ন করতে বাধ্য করে।