শ্মশানের শেষ চিতা ও কালো বিড়াল
Google Play থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
লেখক পরিচিতি
বাংলা সাহিত্য নিয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আরাফাত ইসলাম লেখালেখির ভুবনে এক উদীয়মান তরুণ প্রতিভাধর। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে তিনি গল্প লেখার সাথে যুক্ত আছেন। মূলত ভৌতিক এবং হালকা থ্রিলারধর্মী ঘরানার গল্প লিখতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর লেখা গল্পগুলোতে রোমাঞ্চ, রহস্য আর শিহরণ জাগানিয়া পরিবেশের এক অপূর্ব মিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায়, যা থ্রিলারপ্রিয় পাঠকদের সহজেই মন্ত্রমুগ্ধ করে।
গল্পের সারাংশ
নদীর ধারে এক প্রত্যন্ত গ্রামের পুরোনো শ্মশান—স্থানীয়দের কাছে যার নাম ‘শেষ ঘাট’। বহুদিন ধরে সেখানে একটি অদ্ভুত বিশ্বাস প্রচলিত: রাতের শেষ চিতা কখনো একা নিভে যায় না। কৌতূহলী তরুণ অর্ক এক রাতে সেই শেষ চিতার পাশে থেকে যায়। সবাই চলে যাওয়ার পর শ্মশানের নীরবতা, নদীর ওপার থেকে ভেসে আসা পরিচিত কণ্ঠস্বর এবং অস্বাভাবিক কিছু ঘটনার মধ্যে তার নজরে পড়ে একটি কালো বিড়াল। প্রাণীটি যেন আগুনের দিকে নয়, শ্মশানের অদৃশ্য কোনো ঘটনার দিকে নজর রাখছে। অর্ক যত গভীরে অনুসন্ধান করে, ততই সামনে আসে বহু বছরের পুরোনো একটি রহস্য—একটি অদ্ভুত প্রতীক, মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা দরজা, নামহীন কিছু অপেক্ষা, এবং এমন সব কণ্ঠস্বর যা মৃত আপনজনের পরিচিত স্বর ধার করে ডাকে। শ্মশানের অতীতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মৃণালিনী, অর্কের বাবা সুরেশ এবং সদ্য মৃত হরিপদ মণ্ডলের মতো কয়েকজন মানুষের অমীমাংসিত ইতিহাস। আর সেই রহস্যের কেন্দ্রে রয়েছে শেষ চিতা এবং কালো বিড়ালটির নীরব উপস্থিতি। নিজের চোখে দেখা ও শোনা ঘটনাগুলোকে যুক্তি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করতে গিয়ে অর্ক ক্রমশ এমন এক সীমার কাছে পৌঁছে যায়, যেখানে জীবিত ও মৃত, স্মৃতি ও বাস্তবতা, এবং অপেক্ষা ও প্রত্যাবর্তনের পার্থক্য অস্পষ্ট হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত তাকে জানতে হয়—শ্মশানের সেই অদ্ভুত অপেক্ষা আসলে কার জন্য, এবং কেন এত বছর পর তার নামই সেখানে ফিরে ফিরে উচ্চারিত হচ্ছে।