রাত তিনটার শ্মশান ও কালো বিড়াল
Google Play থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
লেখক পরিচিতি
বাংলা সাহিত্য নিয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আরাফাত ইসলাম লেখালেখির ভুবনে এক উদীয়মান তরুণ প্রতিভাধর। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে তিনি গল্প লেখার সাথে যুক্ত আছেন। মূলত ভৌতিক এবং হালকা থ্রিলারধর্মী ঘরানার গল্প লিখতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর লেখা গল্পগুলোতে রোমাঞ্চ, রহস্য আর শিহরণ জাগানিয়া পরিবেশের এক অপূর্ব মিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায়, যা থ্রিলারপ্রিয় পাঠকদের সহজেই মন্ত্রমুগ্ধ করে।
গল্পের সারাংশ
গ্রামের মানুষ জানে, রাত তিনটার পর শ্মশানের রাস্তা দিয়ে গেলে পেছন থেকে কেউ নাম ধরে ডাকতে পারে। সেই ডাক শুনলেও ফিরে তাকানো নিষেধ—কারণ যে একবার ফিরে তাকায়, সে আর আগের মতো ফিরে আসে না। ডাকপিয়ন হরিপদ মণ্ডল এক রাতে বাধ্য হয়ে সেই নিষিদ্ধ পথ দিয়ে যাওয়ার সময় নিজের নাম ধরে একটি কণ্ঠ শুনতে পায়। নিয়ম ভেঙে পেছনে তাকিয়ে সে কাউকে দেখতে না পেলেও দেখতে পায় একটি অস্বাভাবিক কালো বিড়ালকে, যার উপস্থিতি ধীরে ধীরে তার জীবনের এক পুরোনো, চাপা পড়ে থাকা রহস্যের সঙ্গে জড়িয়ে যেতে থাকে। হরিপদের বাড়িতে আসতে থাকে রহস্যময় চিঠি, হারিয়ে যাওয়া নথি ও নিতাই নামের এক মৃত ডাকপিয়নের বহু বছরের পুরোনো স্মৃতি। অনুসন্ধান করতে গিয়ে সে জানতে পারে, নিতাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা গ্রামের প্রচলিত গল্পের মতো সরল নয়; তার নিজের বাবা রঘুনাথও সেই ঘটনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিলেন। শ্মশানের বটগাছের নিচে লুকিয়ে থাকা অজানা ইতিহাস, রাত তিনটার ডাক এবং বারবার দেখা দেওয়া কালো বিড়াল—সবকিছু যেন একই রহস্যের দিকে ইঙ্গিত করতে থাকে। কিন্তু হরিপদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—পেছন থেকে যে কণ্ঠ তাকে ডাকে, সেটি আসলে কার? কেন সেই ডাক তার পরিচিত মানুষের কণ্ঠে ফিরে আসে? আর বহু বছর আগে শ্মশানে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার সঙ্গে তার নিজের জীবনের সম্পর্কই বা কী? সত্যের কাছাকাছি যেতে যেতে হরিপদকে এমন এক ভয়ের মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে অতীতের স্মৃতি, লোকবিশ্বাস এবং অদৃশ্য কোনো উপস্থিতির সীমারেখা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে যায়।