দ্য গ্রিন কফিন

হচ্ছিল, আর সেখান থেকে চুইয়ে পড়া অ্যাসিডের মতো লালা আমার ১৯৫২ সালের খাকি শার্টের কাঁধের অংশটা পুড়িয়ে দিচ্ছিল।

“সেনর আর্থার! রাইফেলের কুঁদো দিয়ে আঘাত করুন! এরা শক্তিতে পারে না, এরা শুধু পেঁচাতে জানে!” ম্যানুয়েল দুই হাতহীন শরীর নিয়ে দেয়ালে পিঠ ঘষে কোনোমতে নিজেকে সোজা রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।

আমি আমার লি-এনফিল্ড রাইফেলটা দুই হাতে শক্ত করে ধরলাম। গুলি করার কোনো মানে হয় না; এই অন্তহীন উদ্ভিদের সমুদ্রে কয়টা গুলি আর কাজ করবে? আমি রাইফেলের ভারী লোহার কুঁদোটা দিয়ে আমার ডান পা পেঁচিয়ে ধরা শিকড়টার ওপর সজোরে আঘাত করলাম।

ক্র্যাক!

একটা শুকনো হাড় ভাঙার মতো শব্দ হলো এবং শিকড়টা ঝটকা দিয়ে পিছিয়ে গেল। ওটার ক্ষতস্থান থেকে ফিনকি দিয়ে বের হলো কালচে আঠালো তরল। আমি এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে ম্যানুয়েলের দিকে তাকালাম। একটা সুতোর মতো সরু কিন্তু ইস্পাতের মতো শক্ত লতা তখন তার গলার চারপাশে ফাঁসের মতো চেপে বসছে। ম্যানুয়েলের মুখটা অক্সিজেনের অভাবে কালচে বেগুনি রঙ ধারণ করছিল।

“ম্যানুয়েল!”

আমি এক লাফে এগিয়ে গিয়ে আমার শিকারি ছুরিটা দিয়ে লতাটার ওপর পোচ দিলাম। ছুরিটা লতার ভেতর ঢুকতেই এক অদ্ভুত মানুষের কান্নার মতো তীক্ষ্ণ শব্দ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল। লতাটা আলগা হতেই ম্যানুয়েল মাটিতে পড়ে গিয়ে কাশতে লাগল। তার গলার চামড়া ছিলে গিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।

কিন্তু পুরো শহরটা তখন আমাদের ওপর খেপে উঠেছে। দুপাশের উদ্ভিদের বাড়িগুলো থেকে মোটা মোটা ডালপালা চাবুকের মতো ধেয়ে আসছিল। বাতাস কাটার তীব্র শাঁ শাঁ শব্দে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার উপক্রম। আমি ম্যানুয়েলের জ্যাকেটের কলার ধরে তাকে টেনে তুললাম এবং সামনের দিকে তাকালাম। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য এখন ওই পিরামিড আকৃতির প্রকাণ্ড গাছটা, যা শহরের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে লাল আলোয় কাঁপছে।

“দৌড়াও, ম্যানুয়েল! থামলেই এরা আমাদের শুষে নেবে!”

আমরা শিকড়ের জটলার ওপর দিয়েই ভারসাম্য বজায় রেখে অন্ধের মতো দৌড়াতে লাগলাম। চারপাশ থেকে ডালপালা আমাদের শরীরে আঘাত করছিল। আমার বাম গালে একটা ধারালো পাতার আঁচড় লেগে চামড়া কেটে গেল, আর সাথে সাথে সেই মিষ্টি কিন্তু বিষাক্ত গন্ধটা আমার মস্তিষ্কে ঝিমঝিমুনি এনে দিল। আমি বুঝতে পারছিলাম, এই জঙ্গলের বিষ আমার রক্তে মিশছে। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে, পা দুটো যেন আর আমার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই। ১৯৫২ সালের এই দুর্গম অভিযানে আমি যে এভাবে প্রকৃতির এক আদিম জঠরে বন্দি হয়ে যাব, তা কখনো ভাবিনি।

দৌড়াতে দৌড়াতে আমরা পিরামিড গাছটার একদম পাদদেশে এসে পৌঁছালাম। কাছ থেকে ওটাকে আরও দানবীয় লাগছিল। ওটার কাণ্ডটা এত বড় যে একটা আস্ত ফুটবল মাঠের সমান। কাণ্ডের গায়ে হাজারটা ছোট ছোট গর্ত, আর সেই গর্তগুলো মানুষের ফুসফুসের মতো বাতাস টানছে আর ছাড়ছে।

সবচেয়ে ভীতিপ্রদ দৃশ্যটা ছিল কাণ্ডের একদম নিচের অংশে। সেখানে শত শত কঙ্কাল আর অর্ধ-গলিত মানুষের শরীর একটা চক্রাকার লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের পাগুলো মাটির নিচে শিকড় হয়ে ঢুকে গেছে,

আপনার মন্তব্য জানান।

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top