দ্য গ্রিন কফিন

“মূল্য বড় চড়া… এর মানে কী?” আমি স্বগতোক্তি করলাম।

ঠিক তখনই পাথরের দেয়ালের ওপরের সেই সবুজ শ্যাওলাগুলো নিজে থেকেই সরতে শুরু করল। প্রকট হয়ে উঠল এক গভীর ফাটল, যা একটা অন্ধকার সুড়ঙ্গের মতো ভেতরের দিকে চলে গেছে। কিন্তু সেই ফাটলের মুখটা আটকে আছে এক জাল সদৃশ লালচে শিকড় দিয়ে। সেই শিকড়গুলো থরথর করে কাঁপছে, আর তাদের গা থেকে টপটপ করে ঝরছে এক ধরণের আঠালো লাল তরল। গন্ধটা অবিকল তাজা রক্তের মতো!

হঠাৎ করেই আমাদের পেছনের জঙ্গল থেকে এক তীব্র গর্জন ভেসে এলো। কোনো পশুর নয়, যেন হাজারটা ডালপালা একসাথে ভেঙে পড়ার শব্দ। সীমানার ওপারে থাকা সেই মাংসাশী জঙ্গল যেন এবার তাদের ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছে। এক বিশাল লতার বান ডাকল আমাদের দিকে। শত শত ক্যাকটাসের মতো কাঁটাযুক্ত লতা তীরের মতো ধেয়ে আসতে লাগল আমাদের লক্ষ্য করে।

“সেনর! পথ খুলুন, নয়তো আমরা এখানেই শেষ!” ম্যানুয়েল চিৎকার করে তার মাশেতে দিয়ে পেছনের লতাগুলোকে প্রতিহত করার চেষ্টা করতে লাগল।

আমি রাইফেলের কুঁদো দিয়ে দেয়ালের লাল শিকড়ের জালে আঘাত করলাম, কিন্তু তা রবারের মতো শক্ত, কাটছে না। ডায়েরির কথাগুলো মাথায় ঘুরতে লাগল—‘শিকড়ের ক্ষুধা শান্ত করা।’

তাজা রক্ত! এরা রক্ত চায়!

আমি আর এক মুহূর্তও ভাবলাম না। আমার পকেট থেকে ছোট শিকারি ছুরিটা বের করে নিজের বাম হাতের তালুতে এক পোচ দিলাম। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছিটকে পড়ল সেই লাল শিকড়ের জালের ওপর।

মুহূর্তের মধ্যে এক অলৌকিক কাণ্ড ঘটল। রক্ত ছোঁয়া মাত্রই শিকড়গুলো যেন এক পরম তৃপ্তিতে শিউরে উঠল। তারা ক্ষুধার্তের মতো আমার রক্ত চুষে নিতে লাগল এবং চোখের পলকে জালটা সংকুচিত হয়ে দুপাশে সরে গেল, খুলে গেল ভেতরের অন্ধকার পথ।

“ম্যানুয়েল, ভেতরে চলো!” আমি চিৎকার করলাম।

কিন্তু ম্যানুয়েল যখন ঘুরল, আমার বুকটা হিম হয়ে গেল। একটা বিশাল, কালো রঙের কাণ্ডযুক্ত লতা ম্যানুয়েলের একমাত্র বাম হাতটা শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরেছে। লতার গায়ের মোটা মোটা কাঁটাগুলো তার মাংস ভেদ করে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। ম্যানুয়েল তার মাশেতেটা হাত থেকে ফেলে দিল তীব্র যন্ত্রণায়। লতাটা তাকে পেছনের সেই মাংসাশী জঙ্গলের অতল অন্ধকারের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, আর পাথরের দেয়ালের প্রবেশদ্বারটি আবার ধীরে ধীরে বন্ধ হতে শুরু করেছে!

পাথরের তোরণের ভারী মুখটা ইঞ্চি ইঞ্চি করে বন্ধ হয়ে আসছিল। ওদিকে ম্যানুয়েলের একমাত্র ভালো হাতটা পেঁচিয়ে ধরেছে সেই কুচকুচে কালো লতা। কাঁটাগুলো তার চামড়া ফুঁড়ে ভেতরে ঢুকতেই ম্যানুয়েলের মুখটা যন্ত্রণায় নীল হয়ে গেল। সে দাঁড়িয়ে থাকার শেষ চেষ্টা করছিল, কিন্তু মাটির তলা থেকে উঠে আসা অদৃশ্য কোনো শক্তি তাকে পেছনের সেই অন্ধকার নরকের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল।

আপনার মন্তব্য জানান।

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top